বর্তমানে ব্যাংকিং কার্যক্রম ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর হলেও, কিছু প্রথাগত পদ্ধতি এখনো চালু রয়েছে যা অতীতের ম্যানুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত। এরই একটি উদাহরণ হলো—চেকের পিছনে গ্রাহকের দুটি স্বাক্ষরের প্রচলন।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই দুটি স্বাক্ষরের নিয়ম মূলত প্রবর্তিত হয়েছিল ম্যানুয়াল ব্যাংকিং যুগে, যখন ব্যাংকিং লেনদেনগুলো কম্পিউটার বা অনলাইন সিস্টেমে নয়, বরং হাতেকলমে বড় লেজার বইতে রেকর্ড রাখা হতো। ফলে, তাৎক্ষণিক যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত ছিল। এ প্রেক্ষিতে চেকের নিরাপদ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে দুই ধাপের স্বাক্ষর পদ্ধতি চালু করা হয়।
স্বাক্ষর দুটির কার্যকারিতা:
১. প্রথম স্বাক্ষর : গ্রাহক যখন চেকটি নগদায়নের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে উপস্থাপন করেন, তখন চেকের পেছনে প্রথম স্বাক্ষর প্রদান করেন। এটি প্রমাণ করে যে চেকটি গ্রাহকের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেটি গ্রহণ করেছে। এটি এক ধরনের লগ রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
২. দ্বিতীয় স্বাক্ষর : যাচাই-বাছাই শেষে যখন নির্ধারিত অর্থ গ্রাহককে প্রদান করা হয়, তখন তিনি পুনরায় স্বাক্ষর করেন। এই দ্বিতীয় স্বাক্ষরকে বলা হয় "রিসিভড সিগনেচার", যা প্রমাণ করে যে গ্রাহক নির্ধারিত অর্থ বুঝে পেয়েছেন।
প্রয়োজনীয়তার পেছনের যৌক্তিকতা:
এই দ্বি-স্বাক্ষর পদ্ধতি ভবিষ্যতে যেকোনো বিরোধ বা দাবি অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণস্বরূপ কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো গ্রাহক পরবর্তীতে দাবি করেন যে তিনি অর্থ গ্রহণ করেননি, সেক্ষেত্রে চেকের পেছনের দ্বিতীয় স্বাক্ষর ব্যাংকের পক্ষে কার্যকর প্রামাণ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
চেকের পেছনে দুটি স্বাক্ষরের প্রথা শুধু একটি প্রথাগত প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি গ্রাহক ও ব্যাংক উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যুগেও এই ধরনের নিয়ম নীতি ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।